জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন। 

National Emergency Service 999

Date-05/05/2021

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন। National Emergency Service 999।

999 কি ?

৯৯৯ হলো বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত জাতীয় জরুরী সেবা। কেউ তাৎক্ষনিক বড় ধরণের কোন বিপদে পড়লে, অগ্নিকান্ড, মাটিচাপা, এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে যেকোন মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯ এ কল দিলে, ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যা অনুযায়ী নিকটস্থ পুলিশ/ফায়ার সার্ভিস/এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। 

বিশদভাবে বলতে গেলে, যেইসব জরুরী সমস্যায় তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা পুলিশের/ ফায়ার সার্ভিসের/ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মোবাইল নম্বর থাকে না বা তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না সেই সময় যেকোন মোবাইল ফোন থেকে শুধুমাত্র ৯৯৯ এ কল দিয়ে সেবা গ্রহণ করা যায়। তাই বলে যেকোন সমস্যায় ৯৯৯ এ কল দেওয়া উচিৎ নয়।

999 এ কল  চার্জ কত ?

৯৯৯ টোল ফি কল। তাই কোন কল চার্জ প্রযোজ্য হয় না। মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকলেও ৯৯৯ এ কল করা যায়। কল চার্জ নেই বলে যে অপ্রয়োজনে কল দিতে হবে তা নয়।  

999 এর মাধ্যমে আনীত এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দিতে হয় নাকি ?

৯৯৯ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেয় না। সেবাপ্রার্থীর প্রয়োজনে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ নিকটস্থ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাই এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জরুরি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে চালু হয়েছে ৯৯৯ জরুরি সেবা। যে কোন মোবাইল নম্বর থেকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং বাংলাদেশে বসবাসরত অন্য দেশের নাগরিক জরুরি মুহুর্তে পুলিশী সেবা, ফায়ার সার্ভিস সেবা এবং এ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। 

এই কলটি সম্পূর্ণ টোল ফ্রি কল, এতে কোন চার্জ কর্তন করা হয় না। বাংলাদেশ পুলিশের ৯৯৯ সার্ভিসে নিয়োজিত এজেন্টরা আপনার চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় জরুরী সেবা প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে জরুরী সেবা পাওয়ার জন্য এই সার্ভিসটি খোলা হয়েছে। কিন্তু অনেকে অপ্রয়োজনে কল করায় অনেক প্রকৃত সেবাপ্রার্থী কল দিয়েও লাইনে প্রবেশ করতে পারে না। 

সাধারণ যেই সমস্যাটি (যা অতি জরুরী নয়) নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে সমাধানযোগ্য সেটির ক্ষেত্রে ৯৯৯-এ কল করার প্রয়োজন নেই। এই ৯৯৯ সেবাটি কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কিভাবে ব্যবহার করবেন তা জানানো হলো। 


  • জরুরী সমস্যায় সেবাপ্রার্থীকে অবশ্যই যেই ঠিকানায় সেবা নিতে চান সেই ঠিকানা অর্থাৎ জেলা, থানা/উপজেলা, রাস্তা, দৃশ্যমান প্রকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। যাতে ৯৯৯ সেন্টারের অপারেটর জরুরী সমস্যায় সেবাপ্রার্থীর নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে তড়িৎ সেবা প্রদান করতে পারে।  

  • জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সেবাপ্রার্থীর নিকট ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং জরুরী সেবাদানকারী কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

  • জরুরী সমস্যায় শান্ত থাকা কঠিন ব্যাপার। তথাপিও সেবাপ্রার্থীর সমস্যা তুলে ধরার সময় ধৈর্য্যধারণ করতে হবে এবং সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে হবে। সেবাপ্রার্থীর সমস্যাটি সঠিকভাবে ৯৯৯ সেন্টারের অপারেটর বুঝতে না পারলে সেবাপ্রার্থীর সেবা পেতে বিলম্ব হতে পারে। তাই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শান্ত থেকে সেবা দানে সহায়তা করতে হবে।   
 
  • জরুরী সেবা নেওয়ার সময় সেবাপ্রার্থী কোন পরিস্থিতিতে আছে, কিভাবে আছেন, সেবা কি নিজের প্রয়োজন নাকি অন্যের প্রয়োজনে কল করেছেন তা বিস্তারিত জানাতে হবে। যেমন আপনার কি প্রয়োজন পুলিশী সেবা, এ্যাম্বুলেন্স নাকি ফায়ার সার্ভিস নাকি জরুরী অন্য সেবা তা জানাতে হবে।

  • এ্যাম্বুলেন্স সেবার বিষয়টি একটু ব্যতিক্রম। আপনার কিংবা অন্যকারো যদি এ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রয়োজন হয় সেটি কিন্তু বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয় না। ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ নাগরিকের প্রয়োজন অনুযায়ী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদানকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। কাজেই এ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে চাইলে এ্যাম্বুলেন্সের ধরণ, কোথা থেকে কোথায় যেতে হবে, ভাড়ার পরিমাণ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। এরপর ৯৯৯ অপারেটর সেবাপ্রার্থীর চাহিদামত সেবাপ্রার্থীর নিকটস্থ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদানকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন।

  • ফায়ার সার্ভিস নেওয়ার সময়ও একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস শুধুমাত্র অগ্নিকান্ডের বা অগ্নিনির্বাপনের কাজ করে না। ফায়ার সার্ভিসের নাম শুনে অনেকের আগুন সংক্রান্ত সেবার বিষয়টি মনে হলেও ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত লোকজন বিভিন্ন রকম জরুরী সেবা প্রদান করে থাকেন। ফায়ার সার্ভিস অগ্নি নির্বাপনের পাশাপাশি সড়ক দূর্ঘটনা, কোথায় মানুষ কিংবা পশু-পাখি আটকা পড়লে, বিভিন্ন দূর্যোগে মাটি চাপা পড়া সহ বিভিন্ন জরুরী সেবা প্রদান করে থাকে। ফলে এইসব সেবার প্রয়োজন হলে ৯৯৯ এ ফোন করতে পারেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত সহায়তা পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ৯৯৯ অপারেটরকে সহায়তা করতে হবে। চলন্ত অবস্থায় এমন দূর্ঘটনা দেখলে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করুন, আপনার ফোন করার পূর্বেই ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের কোন ইউনিট সেখানে পৌঁছে গেছে কিনা।

  • জরুরি পুলিশী সেবার ক্ষেত্রে ৯৯৯-এ কল দিলে ৯৯৯ অপারেটর সেবাপ্রার্থীকে সেবাপ্রার্থীর নিকটস্থ থানার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। সেবাপ্রার্থীর চাহিত অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে জানাতে পারবেন। যেহেতু রেফারেন্সের জন্য ৯৯৯ এ কল রেকর্ড করা হয়ে থাকে, তাই পুলিশের সাথে কথা বলার জন্য সঠিক তথ্য প্রদান করুন। শত্রুতাবশত কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ৯৯৯ এ ফোন করলে যিনি কল করবেন তাহার কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে । মনে রাখবেন আইন অনুযায়ী পুলিশী সাহায্যের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই নিকটস্থ থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হয়। কারণ লিখিত অভিযোগ ছাড়া অনেকে ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে না। ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আপনার করনীয় সম্পর্কে জেনে নিন।

  • ৯৯৯ এ কলদাতা যদি কোন অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় দেখেন তাহলে অপরাধীরা যাতে কলদাতাকে না দেখে কিংবা চিনে ফেলে সেজন্য আগে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গমন করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ৯৯৯ এ কল করতে হবে। ৯৯৯ এ কলদাতা অপরাধীকে চিনে থাকলে তা জানান কিংবা কাউকে সন্দেহ করেন কিনা তাও জানাতে পারবেন। অপরাধীর হাতে অস্ত্র ছিল কিনা ? অপরাধীর শারীরিক বিবরণ, পরিহিত পোষাকের ধরণ, অপরাধীর অবস্থান কোথায়? ঘটনাস্থল হতে পালিয়েছে কিনা? পালিয়ে গেলে কোন দিকে পালিয়েছে? অপরাধীদের কোন গাড়ি ছিল কিনা? কি গাড়ি এবং গাড়ীর বিবরণ গাড়ির নাম্বারের অংশবিশেষ যতটুকু সম্ভব সঠিক তথ্য দিয়ে ৯৯৯ অপারেটরকে সহায়তা করুন।

  • কলদাতা যেই নাম্বার থেকে ৯৯৯ এ সেবা পাওয়ার জন্য কল করেছেন সেই নাম্বারটি অবশ্যই খোলা রাখা প্রয়োজন। কারণ ৯৯৯ অপারেটর যেকোন মুহুর্তে প্রয়োজন হলে কলদাতার সাথে পুনরায় যোগাযোগ করতে পারে। অন্যদিকে কলদাতার চাহিদা অনুযায়ী নিকটস্থ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা এ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষও সেবাপ্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • ৯৯৯ হচ্ছে জাতীয় জরুরী সেবা অর্থাৎ ইমাজেন্সি সার্ভিস। তই বিনা কারণে ৯৯৯ এ ফোন করলে লাইন ব্যস্ত হয়ে থাকে। যার দরুন প্রকৃতপক্ষে যারা বিপদগ্রস্থ তারা সেবা পেতে বিলম্বিত হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। যারা বিষয়টি জানেন তারা অন্যদেরকে জানিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন।

  • ৯৯৯ এ যাওয়া প্রতিটি কলকেই অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ধরে নিয়ে সেবা প্রদানের কাজ করা হয়। তাই যারা ভুয়া কল করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া এবং ভুয়া কলদাতার নাম্বারটি ব্লক করে দেওয়া হবে। অনেক শিশু বর্তমানে এন্ড্রয়েড মোবাইলে গেইম/কাটুন দেখে থাকে। সেই সময় যাতে শিশুরা ভুলবশত ৯৯৯ এ কল না দেয় সেই দিকে সচেতন থাকুন। অনেক সময় মোবাইল লক না করার কারনে চাপ লেগে ৯৯৯ কল চলে যায়, সেজন্য মোবাইলটি ব্যবহারের পরপর লক করে রাখুন।

জরুরি সেবার প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশের ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ সদা জাগ্রত। পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। ভাল থাকুন, নিরাপদে থাকুন।


অনেকে এখনো ৯৯৯ কি ? কেন কল দিতে হয় ইত্যাদি বিষয়ে অবগত নয়। ৯৯৯ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও জন সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই বিষয়টি তুলে ধরা হলো। 

এটি একটি জাতীয় জরুরী সেবা তাই জরুরী প্রয়োজনে কল দিয়ে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষকে জরুরী সেবা প্রদানে সহায়তা করুন। 


৯৯৯ ছাড়াও বাংলাদেশে আরো কিছু হট লাইন নাম্বার চালু আছে। সেসব হট লাইন নাম্বারেও প্রয়োজন অনুযায়ী কল করে সেবা নিতে পারেন। 


প্রতিটি হটলাইন নাম্বার নাগরিকের প্রয়োজনে ও সুবিধার কথা চিন্তা করে চালু করা হয়েছে, তাই প্রয়োজন ছাড়া কল করা উচিৎ নয়। নিম্নে বর্ণিত হট লাইনগুলির মধ্যে ৯৯৯ ব্যতীত অন্যান্য হট লাইনে কল চার্জ প্রযোজ্য আছে। 


নিম্নে ৯৯৯ সহ অন্যান্য হট লাইনগুলির তথ্য তুলে ধরা হলো-

  • জরুরী সেবা-৯৯৯,
  • শিশু সহায়তা-১০৯৮,
  • নারী ও শিশু নির্যাতন-১০৯/১০৯২১,
  • জাতীয় পরিচয়পত্র-১০৫,
  • সরকারী আইন সেবা-১৬৪৩০,
  • দুর্যোগের আগাম বার্তা-১০৯৪১,
  • দুদক হটলাইন-১০৬,
  • তথ্য সেবা-৩৩৩.

পোস্টটি শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন।

ধন্যবাদ।


আরো দেখুন- নাগরিক পরিচিতি ফরম কেন প্রয়োজন। 

৯৯৯ এ অভিযোগ খুলশী থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা। 

৯৯৯-এ ফোন ভিকটিম উদ্ধার, আটক সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্র। 

 

Comments

Popular posts from this blog

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সচেতনতা ও করণীয় কি।

ফেসবুক বা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে কি করবেন।