কনডম এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে বিড়ম্বনা আর কত।

কনডম এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে বিড়ম্বনা আর কত?

কনডম এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে বিড়ম্বনা আর কত।


কনডম যেহেতু যৌন সহবাসে ব্যবহৃত হয়, সেজন্য এদেশে অনেক আগে থেকে এখনো এই বিষয়ে একটি গোপনীয়তার ভাব প্রচলিত আছে। কনডম কিংবা স্যানিটারী ন্যাপকিন কেনার বিষয়ে জড়তা কিছুটা কমলেও লজ্জা এখনো কাটে নি। এই জড়তা ও লজ্জা আরো দিগুন হয় যখন ফার্মেসীতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। 

কনডম কি? 

কনডম হচ্ছে নিরাপদ ও সহজ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। বিভিন্ন রোগের ঔষধ সেবনে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই হিসাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সেবনযোগ্য ঔষধও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত নয়। কনডম ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম এবং যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। অবাঞ্চিত গর্ভধারণ প্রতিরোধে অনেকে কনডম ব্যবহার করে থাকে। 

স্যানিটারি ন্যাপকিন কি?

নারীরা পিরিয়ডের সময় স্যানিটারী ন্যাপকিন বা স্যানিটারী প্যাড ব্যবহার করে। এটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। এটি নারীরা ব্যবহার করায় এই নিয়েও লজ্জা, সংকোচন ও জড়তা এবং উৎসাহের শেষ নেই। তবে অনেকে লজ্জা, সংকোচন ও জড়তা কাটিয়ে পিরিয়ডের সময় বা পূর্বে বিভিন্ন ঔষধের ফার্মেসী থেকে স্যানিটারী ন্যাপকিন বা স্যানিটারী প্যাড ক্রয় করে ব্যবহার করে থাকেন। 


কনডম এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে বিড়ম্বনার কারণ ঃ

বর্তমান সময়ে শহর কিংবা গ্রামের প্রত্যেক ফার্মেসী বা ঔষধের দোকানে বিভিন্ন রকম জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ পাওয়া যায়। যা ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন সেবনযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধের পাশাপাশি কনডমও ফার্মেসীগুলিতে পাওয়া যায়। কনডম ব্যবহারে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের তেমন প্রয়োজন হয় না। 

যারা যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার করে তারা প্রায়শই বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানীয় ফার্মেসী থেকে পছন্দ অনুযারী কনডম ক্রয় করে থাকেন। ফার্মেসীর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারী বা এনজিও এর স্বাস্থ্য কর্মীরা বিভিন্ন দম্পতিকে অবাঞ্চিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধের জন্য বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ করে থাকেন।  


কিছু কিছু ঔষধের দোকান আছে যেখানে কেউ কনডম কিংবা স্যানিটারী ন্যাপকিন কিনতে গেলে দোকানের মালিক থেকে কর্মচারীরা একজন আরেক জনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মুচকি হেসে হেসে কিংবা বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ উক্তি করে মজা নেয়। 

ঐ সময় যিনি ক্রেতা (পুরুষ কিংবা নারী) তিনি দোকানের লোকজন ও অন্যান্য ক্রেতাদের সামনে একপ্রকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। মনে হয় এই সব পন্য কেনা অপরাধ বা যারা এটা নিয়ে হাসি টাট্টার ভান করছে তারা এটি নতুন দেখছে। 

প্রতিটি পণ্য কেনার সময় মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিখ দেখে নেয়া প্রয়োজন। এসব কেনার সময় যেই একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেন অবৈধ কোন কিছু। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিখ অনেকে দেখে না। 

মূলকথা হলো যারা এই ধরনের আচরন করেন তাদের দোকানে এইসব পণ্য রাখা উচিত নয়। এই ধরণের ব্যবসা করার পূর্বে কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় ? কিভাবে গ্রাহকদের সাথে আচরণ করতে হয় তার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নেয়াও উচিৎ। কারন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকৃত গ্রাহক সেবা দিতে জানে না। 

কেউ যদি ছোট শিশুদের প্যাম্পাস কিনতে যায় সেই সময়তো এমনটি হয় না। মনে রাখতে হবে এখন আধুনিক যুগ। এই যুগে ভ্রান্ত ধ্যান ধারনা নিয়ে চলা উচিত নয়। মানুষের সুবিধার প্রয়োজনে বিভিন্ন পণ্য তৈরী করা হয়। সেসব পণ্য বিক্রয়ের সময় গ্রাহককে হেনস্থা করা উচিৎ নয়।   

কনডম বা স্যানিটারী ন্যাপকিন কি শুধু পুরুষ/মহিলারাই কিনবে ?

কনডম যে শুধু পুরুষরাই বা মহিলারাই কিনবে তা নয়। বর্তমান যুগ আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। অনেক সময় স্বামীর ব্যস্ততায় স্ত্রী এবং মেয়ের ব্যস্ততায় মাতা-পিতা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে সহায়তা করে থাকেন। 

সেই হিসাবে কনডম কিংবা স্যানিটারী ন্যাপকিন প্রয়োজন হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে কিনতে পারে। তাতে কারো ভ্রু কুচকানোর কিছুই দেখছি না। 

অন্যদিকে মেয়ের প্রয়োজনে স্যানিটারী ন্যাপকিন বা স্যানিটারী প্যাড মাতা কিনতে পারে। অনেক সময় সচেতন পিতাও এই বিষয়ে মেয়েকে সহায়তা করতে পারে।  

শেষ কথায় আসি, তবে সব ঔষধের দোকানে যে এই ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করে তা নয়। আমি প্রথমেই বলেছি কিছু কিছু দোকানের মালিক/কর্মচারীরা এই ধরনের অনভিপ্রেত সমস্যা সৃষ্টি করে। এই ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন এবং মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।  

আমি বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ঔষধের ফার্মেসীতে ঔষধ কেনার সময় অনেক গ্রাহককে দোকান মালিক/ কর্মচারীদের দ্বারা এই ধরণের বিব্রতকর সমস্যায় পড়তে দেখেছি। তাই এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আজকের এই কন্টেন্টটি শেয়ার করলাম। 

#পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। 

ধন্যবাদ। 

Comments

Popular posts from this blog

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সচেতনতা ও করণীয় কি।

ফেসবুক বা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে কি করবেন।