জন্ম থেকে পরিনির্বান পর্যন্ত সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনী।

জন্ম থেকে পরিনির্বান পর্যন্ত সম্যক সম্বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত জীবনী দেশনা করেছেন ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।

date-25may 2021.

জন্ম থেকে পরিনির্বান পর্যন্ত সম্যক সম্বুদ্ধের জীবনী।


বোধিসত্ত্ব মহাসাল ৬৮ খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৩ সালে জম্বুদ্বীপ কপিবস্তুর শাক্যকুল রাজা শুদ্ধোধনের অগ্রমহিষী মহারাণী মায়াদেবী গর্ভ হয়ে মানুষের গড়ায়ু ১০০ বছর কালে লুম্বিনী বনে ভূমিষ্ঠ হন।


সিদ্ধার্থ কুমার নামকরণ করা হয় জন্মের ০৭ দিনে। ১৬ বছর বয়সে যুবরাজ সিদ্ধার্থ দেবদহ কোলিয় বংশের জন্মজাত রাজা সুপ্রবুদ্ধের রাজকন্যা ভদ্র কাঞ্চনা যশোধরার সাথে সংসার বন্ধনের আবদ্ধ হন।

১৩ বছর কাল ধরে রাজ্য শাসনের কাজে নিয়োজিত থেকে ২৯ বছর বয়সে মহাভিনিষ্ক্রম করে ০৬ বছর ধরে দুষ্করাচরণ (কৃচ্ছ্র সাধন) করলেও বুদ্ধত্ব জ্ঞান লাভ করতে না পেরে দু' অন্ত ত্যাগ করে মধ্য পন্থাবলম্বনের দ্বারা ১০৩ মহাসালে গয়ার বোধিদ্রুম তলে বেদনা নিরোধের তৃষ্ণা নিরোধ হয়ে বৈশাখী পূর্ণিমায় বুদ্ধত্ব জ্ঞান লাভ করেন।

সর্বজ্ঞ বুদ্ধ ঋষিপতনে ০১ বর্ষা, বেণুবনে ০৬ বর্ষা, শ্রাবস্তীতে ২৫ বর্ষা সহ নানাদেশ, স্বর্গ, ব্রহ্মলোকে বিচরণের করে দেব মনুষের হিত সুখ মঙ্গলের জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে মুক্তির পথ দেখিয়ে বয়স তাঁর ৭৯ বছর ৪৪ বর্ষা মহাসাল ১৪৮ এর শ্রাবস্তী থেকে বৈশালী। বৈশালী থেকে গঙ্গা তীর বেলুব গ্রামে বর্ষা যাপন করেন।

সেই সময় বর্ষাবাসকালে বুদ্ধ রক্তবমি হলে তিনি জ্ঞাত হলেন যে তাঁর আয়ু সংস্কার মাত্র ১০ মাস রয়েছে। বুদ্ধের পূর্বে রত্তঞূ শ্রেষ্ঠ কোণ্ডণ্য মন্দাকিনী চন্দনবনে পরিনির্বাপিত হয়েছে। রাহুল ১৮ বছর বয়সে তাবতিংস স্বর্গে পরিনির্বাপিত হয়েছে। প্রবারণার শেষে বেলুব গ্রাম থেকে শ্রাবস্তী আসলে সারিপুত্র পরিনির্বানের প্রার্থনা করেন তিনি নালক গ্রামের জন্মের প্রকোষ্ঠে পরিনির্বাপিত হন কার্তিকী পূর্ণিমায়। বুদ্ধ শ্রাবস্তী থেকে মগধের বেণুবন বিহারে আসলে ইসিগিলি পর্বতে অবস্থান রত মোগ্গলায়ন পরিনির্বাপিত হন।

মগধ বেণুবন থেকে উক্কচেল গ্রাম হয়ে বৈশালীতে উপস্থিত হলে চাপাল দেবচৈত্য, উতেন চৈত্য, গোতম চৈত্য, সত্তব্ব চৈত্য, বহুপুত্রিক চৈত্য সানন্দর চৈত্যের মনোরম মনোমুগ্ধকর কথা আনন্দকে শুনিয়েছিল। সেদিন ছিল “মাঘী পূর্ণিমা” ০৩ মাস পর আয়ু সংস্কার ত্যাগ করতে মারের প্রার্থনা গ্রহণ করলেন।

একরাত্র মহাবন কুটাগারা বিহারে অবস্থান করার পর পরদিন সকালে পাত্র চীবর ধারন করে ভণ্ডুগ্রাম, হস্তীগ্রাম, অম্বগ্রাম, জম্বুগ্রাম ও ভোগনগর গ্রাম হয়ে পাবা রাজ্যে উপস্থিত হয়ে স্বর্ণকারের পুত্র চুন্দের প্রদত্ত পিণ্ড গ্রহণ এবং অনুমোদন দেশনার শেষে কুশিনগর রাজ্যের দিকে গমনের পথে ২৫ বার বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই সময় কক্কুধ নদীর থেকে জল পান করিয়েছিলে।

অবশেষে বুদ্ধ কুশিনগর মল্লদের শালবনে উপস্থিত হলেন। সেদিনও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা। কেন তিনি ভারীরোগ বহন করে কুশিনগর গেলেন? মহা সুদর্শন সুত্র দেশনা প্রদান, ভদ্রকে সংশয় দূর করা এবং দোন ব্রাহ্মণ ধাতু ভাগাভাগি কলহের বিষয় সুখকর দেখে তিনি কুশিনগর যুগ্ন শালবনে মহাপরিনির্বানের জন্যে গমন করেছিলেন।

বৈশাখী পূর্ণিমায় শেষযামে প্রথম ধ্যান থেকে শুরু করে ০৮ সমাপত্তি ধ্যান পর্যন্ত পুনঃ একে একে নেমে আসে ১ম ধ্যানস্তরে। আবার প্রথম থেকে ৪র্থ পর্যন্ত ০১ লক্ষকোটি প্রত্যবেক্ষণ বীথি জবন এবং ০৪ লক্ষবার সমাপত্তিে ৮০ বছর বয়স ৪৫ বর্ষায় অনুপাদিশেষ মহাপরিনির্বান লাভ করলেন।

#সাধু-সাধু-সাধু।

লেখক-
স্বধর্ম দেশক, বিদর্শন আচার্য
ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।
রাঙ্গামাটি।
সময়-দুপুর ১২:২৪ ঘটিকা 
তারিখ-২৩ মে ২০২১ খ্রিঃ।

Comments

Popular posts from this blog

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সচেতনতা ও করণীয় কি।

ফেসবুক বা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে কি করবেন।