পরকীয়ার নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত সমাজ।

পরকীয়ার নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত সমাজ। 

পরকীয়ার নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত সমাজ।


বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ পরিবারে পরকীয়া একটি সাধারণ সমস্যার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পরকীয়ার ফলে প্রতিনিয়ত অহরহ বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে এবং পরকীয়ায় আসক্তদের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। পরকীয়া ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক অগ্রগতিতে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

অনৈতিক সম্পর্ক থেকে পরকীয়ার সৃষ্টি। পরকীয়া নৈতিক অবক্ষয়, এ থেকে উত্তরণ সময়ের দাবী। পরকীয়ার কারণে শুধু পরিবার নয় সমাজও ক্ষতিগ্রস্থ। পরকীয়ার কারনে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সামাজিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পরকীয়া ব্যভিচারের সামিল। পরকীয়া ধর্মীয় ও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ একটি বিষয়।  

পরকীয়া (Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) মানে কি ?

পরকীয়া মানে কমবেশি সবাই অবগত। তারপরও বলতে হয়, বিবাহ পরবর্তী স্বামী কিংবা স্ত্রীর সাথে তৃতীয় কোন বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী বা পুরুষের যেই অনৈতিক সম্পর্ক তৈরী হয়, যা সমাজ ও আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ সেই সম্পর্ককে এক কথায় পরকীয়া বলা হয়। 

পরকীয়া পূর্বে বৃত্তবান শ্রেণীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ধনী-গরীব, শহর-গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু কিছু পরকীয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসলেও বেশিরভাগ পরকীয়ার ঘটনা গোপন থাকে। গোপন থাকে বলে যে পরকীয়া কম তা নয়। আবার অনেকে পারিবারিক ও সামাজিক মানসম্মানের কথা ভেবে জেনেও অনেক কিছু সহ্য করে যাচ্ছে।   

অনেক সময় পরকিয়া সৃষ্টি হয় তৃতীয় কোন ব্যক্তির অবৈধ যৌন চাহিদা তৈরীর পরিকল্পনা দিয়ে এবং সুযোগ সন্ধানী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে। তাই সেই সম্পর্কের কোন ভবিষ্যত নেই অর্থাৎ ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

সাধারণ কোন বিবাহিত যুগলের মধ্যে যেকোন একজন অন্য কোন অবিবাহিত বা বিবাহিত নারী বা পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা পরকিয়া বলে গণ্য হয়। 

প্রতিটি মানুষের মন ক্ষণিকে ক্ষণিকে পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সফল হয়। 

আর যারা লোক দেখানো পারিবারিক বন্ধন সৃষ্টি করে এবং অসংযমী ও উচ্চবিলাসি তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিফল হয়। 

পারিবারিক যুগল জীবনে যারা যত বেশি সংযম এবং একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস, ভালবাসা ও সহনশীলতা বজায় রাখবে এবং অন্য কোন অনাকাঙ্খিত অনৈতিক সম্পর্ককে এড়িয়ে যাবে বা প্রশ্রয় দিবে না তারাই সংসার জীবনে সুখী, আদর্শ স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানের আদর্শ মাতা-পিতা হয়।

সংসারের সাথে সন্তানের ভবিষ্যৎ জড়িত। সংসার করতে হলে নিজের কথা চিন্তা করার চাইতে নিজ সন্তানের ভবিষ্যত সুখের কথা এবং পারিবারিক ও সামাজিক মানসম্মান বেশি চিন্তনীয়।

কেন পরকীয়া সৃষ্টি হয়-

  • প্রথমত বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার মতের অমিল, স্ত্রীর মতামতকে মূল্যায়ন না করা। ছোটখাট বিষয়ে খোটা দিয়ে কথা বলা, সবসময় ভুল ধরার চেষ্টা করা। 
  • পারিবারিক অভাব অনটনের মধ্যে পাশের কেউ সেই অভাব অনটন নিয়ে গায়ে পড়ে সহায়তার চেষ্টা করা এবং সহায়তার সুযোগে ভিন্ন কিছুর আশা করা।  
  • পারিবারিক চিত্ত বিনোদনের অভাবে সংসারে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই পারিবারিক চিত্ত বিনোদন না থাকলে মানসিক প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হতে পারে।
  • পরিবারে ভুল বোঝাবুঝির বিষয় বাইরের কাউকে জানানো উচিত নয়। বাইরের কেউ পরিবারের দুর্বলতা জেনে সুযোগ সন্ধানী হয়ে সংসারে পরকীয়াসহ নানান অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। 
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পরিবারের মনোমালিন্য সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা পোস্ট দেয়া বা কারো সাথে ম্যাসেঞ্জারে শেয়ার করা বা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করার ফলে তৃতীয় কোন ব্যক্তি সেই সংসারে পরকীয়ার সৃষ্টি করতে পারে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কে কি করল বা কোথায় গেল, এটা কিনলাম, ওটা কিনলাম, অমুক জায়গায় গেলাম, অমুক হোটেলে খাবার খেলামসহ বিভিন্ন আনন্দের বিষয় শেয়ার করে থাকে। এসব দেখে অনেক যুগল মানসিক দীনতায় ভোগে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপরিচিত বা পরিচিত বন্ধু/বান্ধবীর সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ায় এবং পরকীয়ায় লিপ্ত হতে পারে। 
  • আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে পরিবারে মনোমালিন্যতা লক্ষ্যণীয়। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে যা দেখছে তা করার চেষ্টায় অনেকে পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে।
  • পরিবারে একে অন্যকে মানিয়ে নেয়া বা একে অন্যের প্রতি সহনশীলতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। নিজেদের মধ্যে সহনশীলতার অভাবে পরিবারে পরকীয়া প্রবেশ করতে পারে।
  • বিয়ের পাত্র/পাত্রী নির্বাচনে নিজ লেভেল বা স্তর (Level) বজায় রাখা উচিৎ। কারণ বিয়ের পর যে কোন একজনের অতি বুদ্ধি কিংবা স্তর (Level) নিয়ে চিন্তা চেতনা জাগ্রত হলে পরিবারে অশান্তি সহ পরকীয়া প্রবেশ করতে পারে। চাকরি বা শিক্ষাগত যোগ্যতাও এর কারণ হতে পারে।  

অনেক সময় বিবাহিত যুগলের যে কোন একজনের সাথে তৃতীয় কোন ব্যক্তির ঠাট্টা মশকারির নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করলেও অদূর ভবিষ্যতে সেই পরিবারে পরকীয়া সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেক সময় নিজ সন্তানের কতিপয় গৃহ শিক্ষকের (কতিপয়-সব গৃহ শিক্ষক নয়) সুযোগ সন্ধানী আচরণের ফলে পরিবারে পরকীয়া সৃষ্টি হয়। তাছাড়াও নিত্য নতুন কারণে ও নিত্য নতুনভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবারে পরকীয়া নামক অনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে।

এই পরকীয়া সম্পর্কের ফলে পরকীয়ায় আসক্ত পরিবারে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়। এই অশান্তি পর্যায়ক্রমে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে এমনকি নিজ সন্তানের চরম ক্ষতি করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। 

পরিবার নিয়ে সমাজ গঠিত হয়। পারিবারিক অপরাধ সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে। এক পরিবারের দেখাদেখি সমাজের অপর পরিবারের মধ্যে এই পরকীয়া মহামারী আকারে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই এই পরকীয়া নামক মহামারী থেকে উত্তরণ সময়ের দাবী। কোন ধর্মে এই পরকীয়া নামক ব্যভিচারকে সমর্থন করে না এবং দেশের প্রচলিত আইনেও এই পরকীয়া নামক ব্যভিচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

পরকীয়ার কারনে সমাজে কি কি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে-

  • পরকীয়ার ফলে সমাজে অহরহ বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। দেখা যাচ্ছে বর-কনের যে কারো বিবাহের পূর্বে এক জনের সাথে সম্পর্ক ছিল। আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক যেকোন কারনে যার সাথে সম্পর্ক ছিল তার সাথে বিয়ে না হয়ে অন্য একজনের সাথে বিবাহ হল। বিয়ের পরও পূর্বের সেই সম্পর্ককারী নারী বা পুরুষ বিভিন্নভাবে পূর্বের সম্পর্কের বিষয়ে প্ররোচিত করে আবেগ সৃষ্টি করে নতুন দম্পতির সংসারে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করছে। ফলে অনেক নবদম্পতির সংসার বিষাদে রূপ নিচ্ছে। 
  • পরকীয়ার ফলে পরকীয়ায় আসক্ত মাতা বা পিতার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এসব সন্তান মাতা-পিতার প্রকৃত ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একাকিত্ব নিয়ে বড় হওয়ার ফলে পরিবার বিমুখী ও বিভিন্ন রকম মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে।  
  • পরকীয়া আসক্ত পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করে। স্বামী বা স্ত্রীর যে কেউ পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার কারনে অনেক নিরিহ নারী বা পুরুষ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। ফলে নিষ্পাপ সন্তানের মনেও পরিবার সম্পর্কে ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে।
  • অনেক সময় সংবাদ মাধ্যমের কল্যানে দেখা যায়, স্বামীর সারা জীবনের আয় করা টাকা নিয়ে পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রী অন্যের হাত ধরে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। আবার স্ত্রীর চাকরি বা ব্যবসার টাকায় স্বামী অন্য নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত।  
  • পরকীয়ায় বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে তৃতীয় ব্যক্তির সহায়তায় স্বামী হলে স্ত্রীকে আবার স্ত্রী হলে স্বামীকে এমনকি নিজের ছোট ছোট সন্তানকেও হত্যা করার মত অপরাধের ঘটনা ঘটছে।
  • পরকীয়ার ফলে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের মাতা/পিতার অবহেলায় বড় হওয়া সন্তান প্রকৃত মানুষ না হওয়ায় তথা নৈতিক শিক্ষা না পাওয়ায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হচ্ছে। ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।


পরকীয়া থেকে উত্তরণে কিছু সচেতনতা জরুরী-

  • প্রথমত নিজেকে সংযমী হতে হবে। বাহ্যিক চাকচিক্য না দেখে নিজের যোগ্যতার বিচারে চলার চেষ্টা করতে হবে।
  • নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। 
  • বর্তমান সময়ের বাস্তবতার নিরিখে প্রেম করে বিবাহ (Love Marriage) হোক কিংবা পারিবারিকভাবে দেখে-শুনে বিবাহ (Arranged Marriage) হোক বিবাহের পূর্বে অবশ্যই বর-কনেকে বিবাহ পরবর্তী পরিবারের আয়-ব্যয়, ভরণ-পোষণ, স্বচ্চলতা-অস্বচ্চলতা, চাল-চলন, আচার-আচরণ ইত্যাদি বিষয়ে জড়তা না রেখে খোলামেলা আলোচনা করে নেয়া প্রয়োজন। আলোচনায় যে কারো একজনের মতের অমিল থাকলে বিবাহ পর্যন্ত সম্পর্ক না গড়ানো উচিত। তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় উভয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সত্য কথা বলা উচিত। কারন দেখা যাচ্ছে বিয়ের সপ্তাহ-দশদিন কিংবা মাস খানেক পড় কিংবা দুই/তিন মাস পর কিংবা ছয় মাসের মধ্যে অনেক নবদম্পতির সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। বিয়ের কিছু দিন পর বন্ধন ছিন্ন হওয়ার বা করার চাইতে উভয়ের খুটিনাটি বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে মতের অমিল থাকলে বিবাহ বন্ধনে না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি।  
  • পরিবারে মতের অমিল থাকতে পারে, তা নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নিতে হবে এবং একে অন্যের মতামতকে মূল্যায়ন করতে হবে। 
  • পারিবারিক অভাব অনটন থাকবে। সেই অভাব অনটন নিয়ে কেউ গায়ে পড়ে সহায়তার সুযোগের আশ্বাসে ভিন্ন কিছুর আশা করছে কিনা সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।   

  • মানসিক প্রশান্তির জন্য পারিবারিক চিত্ত বিনোদনের প্রয়োজন। তাই বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন সময়-সুযোগ করে পারিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া, পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়া প্রয়োজন।
  • পরিবারে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা বাইরের কাউকে না জানিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করার উচিত। নিজ পরিবারের দুর্বলতা অন্যের কাছে প্রকাশ করলে সে সুযোগ সন্ধানী হবে এটাই স্বাভাবিক।  
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ পরিবারের মনোমালিন্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা থেকে বিরত থাকা। 
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নিজের ঢোল নিজে পেটানোর বা পাবলিসিটি করার জায়গা। এখানে কে কি প্রকাশ করল তা নিয়ে নিজ পরিবার ও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে মানসিক দীনতায় ভোগা উচিত নয়।
  • আকাশ সংস্কৃতির সবকিছুই নিজ পরিবারে বা ব্যক্তি জীবনে অনুকরণ করা উচিত নয়। 

  • বিয়ের সময় নিজ লেভেল বা স্তর (Level) অতিক্রম না করে নিজ নিজ স্তরের (Level) মধ্যে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে বিয়ের পাত্র/পাত্রী নির্বাচন করা উচিত। কারণ প্রথম প্রথম ভাল লাগলেও যে কোন একজনের স্তর (Level) উন্নতির চিন্তায় কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যেকোন সময় পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
  • বিবাহিত যুগল তথা বৌদি বা ভাবীর সাথে অনেকে ঠাট্টা-মশকারি করে থাকে। এই ঠাট্টা মশকারির সীমা যাতে লঙ্ঘন না হয় সেই বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। 
  • পরকীয়া শুধুমাত্র বাইরের লোকের মাধ্যমে হয় তাও নয়, অনেক পরিবারে আপনজন তথা নিকট আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেখা যায়। তাই ঘরে-বাইরে সব জায়গায় সচেতন থাকা উচিত।
  • নিজ সন্তানের গৃহ শিক্ষকও ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই গৃহ শিক্ষকের সাথে সন্তানের লেখাপড়ার বাইরে সংসারের কোন কথা শেয়ার না করা এবং মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগাযোগ রক্ষা না করা। বিশেষ দ্রষ্টব্য- সব গৃহ শিক্ষক এক নয়, কতিপয় গৃহ শিক্ষকের পরকীয়ার কারনে ইতিপূর্বে অনেক বড় বড় অঘটন বা লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 


পরকীয়া নারী-পুরুষ, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, আপন-পর, আত্মীয়-স্বজন, শহর-গ্রাম, পাড়া-প্রতিবেশী, বয়স, ধর্ম মানে না। নারী ও পুরুষ যে কেউ পরকীয়ায় আসক্ত হতে পারে। পরকীয়া এক ধরণের প্রতারণা ও সুযোগ সন্ধানী অনৈতিক প্রেম এবং একটি সুন্দর পরিবার ধ্বংসের কারন। 

তাই এই পরকীয়া নামক ব্যভিচার থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করতে হলে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। 

পাশাপাশি নৈতিক আচার-আচরণ মেনে সংযমী হয়ে মানুষের (পরিবারের সকল সদস্য-আত্মীয়-স্বজন-পাড়া-প্রতিবেশী) সাথে চলাফেলা উচিৎ। মনের মধ্যে এই ধরণের খারাপ চেতনা জাগ্রত হওয়ার সাথে মনকে সংযত করতে হবে। 

এবার আসি আইন কি বলে বা কখন পরকীয়া ব্যভিচারে রূপ নেয়? 

আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে পরকীয়া (Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ নেই। আইনে ব্যভিচার সম্পর্কে শাস্তির বিষয়ে উল্লেখ আছে। আর ব্যভিচারের সাথে অন্যের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক বিদ্যমান। যদি কোন ব্যক্তি পরকীয়া করে বা পরকীয়া সম্পর্কের পর অন্যের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে স্ত্রী লোকটির স্বামীর বিনা অনুমতিতে বা সম্মতি ব্যতিরেকে অবৈধ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তখনই সেই সম্পর্কটি ব্যভিচার বলে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়। দন্ডবিধি আইনের (পেনাল কোড-১৮৬০) ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচার ও এর শাস্তি সম্পর্কে উল্লেখ আছে। 

পরকীয়ার কারনে সামাজিক অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আইন দিয়ে এই সমস্যা সমাধানের চাইতে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিকতা, সংযম, সৎ চেতনা, সৎ চরিত্র দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

#পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হল।

ধন্যবাদ।    

Comments

Popular posts from this blog

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সচেতনতা ও করণীয় কি।

ফেসবুক বা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে কি করবেন।