জীবনের শেষ পরীক্ষা সম্পর্কে মূল্যবান দেশনা।

জীবনের সর্বশেষ পরীক্ষা আলোচনায় ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়। বৌদ্ধধর্মীয় বিষয়।

জীবনের শেষ পরীক্ষা সম্পর্কে মূলবান দেশনা।


জীবনে কতক পরীক্ষা থাকে এতে সর্বশেষ পরীক্ষা হল মরণ পরীক্ষা। এ পরীক্ষা জীবনে সর্বচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষা। টাকা-পয়সা থাকুক বা না থাকুক, লিখা-পড়া জানুক বা না জানুক, এ পরীক্ষা দেবো না বলার কোন সুযোগ নেই, প্রত্যেককে এ পরীক্ষা দিতেই হবে।

এটি এ দেহ-মন (নামরূপ) ভবে সর্বশেষ কঠিন পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় নকল করা কোন সুযোগ নেই। এটি নিজের প্রশ্ন, নিজের পরীক্ষা, নিজের লিখিত খাতায় নিজেকে নাম্বার দিয়ে পাস-ফেল রেজাল্ট দিতে হয়।

পরীক্ষাটা যখন ইচ্ছে করে তখন দিতে হয়। আগের থেকে প্রস্তুতি নিয়ে না রাখলে এ কঠিন পরীক্ষা ফেল করবে।

পরীক্ষা দেওয়া নির্দিষ্ট কোন সেন্টার বা সময়সূচী দেয়া নাই, যে কোন সময়ে দিতে হয়। পরীক্ষা কবে হবে তা অনুমান করাও কঠিন। এ পরীক্ষা ফেল করলে কঠিন দুঃখ ভোগ করতে হয়।

জীবনে সর্বশেষ একটা কঠিন পরীক্ষা আছে বলে তের না পেয়ে কেউ কেউ এ পরীক্ষাকে চিন্তাও করে না, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নেয় না। আর কেউ কেউ পরীক্ষা আছে বলে জানার সত্ত্বেও প্রস্তুতি নেয় না। ভুলবশত তের পাক বা না পাক, জানুক বা না জানুক এ পরীক্ষা ফেল করলে পরিণাম ভালো হয় না।

মরণ নামক পরীক্ষাকে জন্ম জন্মান্তরে কতক অসংখ্যবার দিলেও যতক্ষণ না উত্তীর্ণ না হবে এ পরীক্ষাকে বারবার দিতে হয়। এবার উত্তীর্ণ হতে না পারলে আবার এ পরীক্ষা দিতে হবে। এ পরীক্ষা সবচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষা। যতক্ষণ না এ পরীক্ষা পাশ না হবে ততক্ষণ দিতে হবে। অলস ব্যক্তির জন্য জন্মান্তরে এ পরীক্ষাটা কত বিরক্তকর হতে পারে ভেবে নিও।

পরীক্ষা কৃতকার্য হবার জন্য দেহ-মন (নাম-রূপ) স্বভাব ভবে এমন কঠিন পরীক্ষা হয়ে থাকে। দেহ-মন ভব বিষয়ে চুড়ান্ত সত্যজ্ঞানে না পৌঁছার পর্যন্ত সত্যকে জানার জন্য ভব (নাম-রূপ) শিক্ষাপাঠ স্মৃতিপ্রস্থানে প্রজ্ঞামার্গ প্রয়োগ করে অনুশীলন করতে হবে। সবার মনে অন্ধকার বিদূরিত হয়ে প্রজ্ঞামার্গের আলোক প্রজ্জ্বলিত হোক।

অবস্থা বুঝে বিনীতভাবে কথা বলা নিয়ে মূল্যবান দেশনাঃ-


মন খারাপ থাকলে কথা না বলা।
কেন? মন খারাপ থাকলে মুখে ভালো কথা বের হয় না। তাই অমন সময়ে কথা না বলাই কল্যাণ। একদম না বলা তা না, কিভাবে বলতে হয় সেগুলোকে জেনে নিন!

কথা বলার নিয়ে বুদ্ধের উপদেশ রয়েছে-

(১) উচিত সময়ে বলা। অসময়ে না বলা।
(২) সত্য বলা, মিথ্যা না বলা।
(৩) সবিনয়ে বিনীতভাবে বলা।
(৪) উপকারীর অর্থকরী কথা বলা। অনর্কর কথা না বলা।
(৫) মৈত্রী সহকারে বলা। ক্ষোভে না বলা।

এরূপ আচরণের অপ্রমাদ থাকলে কারো সাথে কোন সমস্যা হবার কারণ থাকে না। কারোর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয় নিজের কথাবার্তার মন্দের কারণে।

অনুচিত কথা বললে সম্পর্ক নষ্ট হয়। ক্ষোভ অসন্তুষ্ট হয়ে বললে সম্পর্ক নষ্ট হয়। অনর্থকর অনর্থক কথা বললে সম্পর্ক নষ্ট হয়। অপ্রমাদের সহিত সকল পুণ্যকর্ম করা অভ্যাস করা। সবার হিত সুখ মঙ্গল হোক।

লেখক-

স্বধর্ম দেশক, বিদর্শন আচার্য
ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ থের মহোদয়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।

Comments

Popular posts from this blog

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কি জেনে রাখুন।

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সচেতনতা ও করণীয় কি।

ফেসবুক বা অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে কি করবেন।